বন্দনা সিংহ রায়
ঢ্যাঁড়সের ভুলোমনা
বাড়িটার নাম " শান্তিবিলাস "এ হেন বাড়ির দজ্জাল পিসিমা সারাদিন ঘরে চিৎকার চেঁচামেচি করে সারাবাড়ি দাপিয়ে বেড়ান তাই লোকে ' ভ্রান্তিবিলাস'।ভয়ে সিঁঁটিয়ে থাকেন গৃহকর্তা সাহস রায় ।পিসিমার ভয়ে কোনো কাজই ঠিক করে উঠতে পারেন না সব কিছুই গুলিয়ে ফেলেন । তাই মিচকে লোকে তাকে বলে ঢ্যাঁড়স রায় সবকিছুই শুধু ভুল হয়ে যায় ---যদি ভাবে পূর্ব দিকে যাবে তো চলে যায় পশ্চিম দিকে ।
এদিক সেদিক চেয়ে বেড়ায় অফিসে নিজের টেবিলে না বসে মাঝে মাঝেই অন্যের টেবিলে বসে পড়ে
সবাই খোঁজ খোঁজ খোঁজ দেখা গেল উনি আরেক জনের টেবিলে বসে হম্বিতম্বি করছেন ।কখনো কখনো ম্যানেজারের টেবিলে বসে ও নিজেকে ম্যানেজার মনে করে ।
তাকে ভুল ধরিয়ে আবার তার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হয় ।আনার সময় এমন হ্য করে তাকিয়ে থাকে যে মনে হয় বিশ্ব সংসারের হাল কিছুই সে বুঝতে পারছে না ।
তার এই ভুলের জন্যই নাম হয়ে গেল ঢ্যাঁড়স রায় ।
পিসিমা ভাবল এই ছেলেকে এবার বিয়ে দিয়ে দিই তাহলে তার স্বভাবের হয়তো পরিবর্তন হয়ে যাবে ।
বিয়েতো হল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে -----পিসিমা ছেলেকে পইপই করে বলে দিয়েছে চুপ করে বসে থাকবি উল্টোপাল্টা কিছু করে বসিস না আবার ।
তো বিয়ে তো ভালোয় ভালোয় কেটে গেল ।সবাই যেযার বাড়ি ফিরে গেল ।
ঢ্যাঁড়স রায় নিজের ঘর কিছু তেই খুঁজে পাচ্ছে না --বারদুয়েক দেওয়ালে ঠক্কর খেল ।
তার পর ঘরে ঢুকে দেখছে খাটে কে যেন শুয়ে আছে --বৌ বোধ হয় ঘুমাচ্ছে .-- মা বলে উঠল খোকা এলিই আয় বাবা বস একটু আমার পাশে ।
বলল পিসিমা বসবতো কিন্তু আমার ঘরতো খুঁজে পাচ্ছি না -্--কোথায় বলতো?
এই সেরেছে খোকন আবার তুই তোর ঘর হারিয়েছিস ?
কোনদিন না আবার বৌকেই হারিয়ে ফেলিস !!!
যা অবস্থা তোর ।
যা ঐ দক্ষিণ দিকের ঘরটা তোর
চলল তো বটেই একটু পরে আবার ভুলে গেছে --
এদিক সেদিক করতে করতে ঢুকে পড়ল ঘরে --
উ বাবা এই তো আমার ঘর বাবারে বলে পরম সুখে খাটের মধ্যে শুতে যেতেই ---দিদিভাই বলেই এক চিৎকার শুনতে পেল ---এ রে কে রে
উড়ে বাবারে বলেই এক লাফ ।
দিদি ভাই ছুটে আসতেই শালী বলে উঠল দ্যাখনা দিদিভাই ---জিজুকে !!
জিজুর তো অবস্থা কাহিল ---বৌ বলে উঠল আবার ভুলে গেছ ?
তোমাকে আচ্ছা করে লাঠি পেটা করলে সব ঠিক হয়ে যাবে ।
পরেরদিন দেখা গেল ঢ্যাঁড়স বাবু নীচে মেঝেতে উপুড় হয়ে বলছে --
ছোত্তখোকা বলে অ আ
শেখেনি সে ঘর খুঁজে নেওয়া ।
©bandana_r
B