বিদায়ের আর্তনাদ
শেষবার তোমাকে সামনে থেকে দেখার অধিকারটুকুও এই নিষ্ঠুর নিয়তি আমার থেকে কেড়ে নিল। চোখের কার্নিশে জমে থাকা শেষ ইচ্ছেটা পূরণ হলো না— যে বিদায়বেলায় তোমার মুখটা একবার দু’চোখ ভরে দেখে নেব। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা তোমার ওই নামটা আর যান্ত্রিক কণ্ঠস্বরই আমার জীবনের শেষ সম্বল হয়ে রইল। এক মুহূর্তের ব্যবধানে পৃথিবীটা উল্টে গেল, সব শেষ হয়ে গেল... অথচ আমি তখনও জানতাম না এটাই আমার দুঃখের শুরু।
সেই রাতটা আজও আমার সত্তাকে কুরে কুরে খায়। যখন সবাই ঘুমে মগ্ন ছিল, তখন আমার পৃথিবীটা চুরমার হয়ে যাচ্ছিল। সেই রাতটা আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে বিষাক্ত আর নিষ্ঠুর এক বিভীষিকা। চারদিকে শুধু জমাট বাঁধা অন্ধকার, আর আমার পাঁজরের ভেতর এক অবরুদ্ধ হাহাকার যা বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না। ভাগ্য এতটুকুই বেইমানি করল যে, একটা শেষ চাহনি দিয়ে বিদায় বলার সুযোগটাও আমাকে দিল না।
আমি তো হেরেছিলাম ইচ্ছে করে, জেনে-বুঝে। কারণ আমার অহংকারের জয়ের চেয়ে তোমার এক চিলতে হাসি আমার কাছে অনেক বেশি দামী ছিল। আমি জানতাম, আমি জিতলে তুমি হেরে যাবে— তোমার হেরে যাওয়া সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না। তাই নিজের কলিজা ছিঁড়ে তোমাকে জয়ের মুকুট পরিয়ে দিয়েছি।
কিন্তু আজ সেই পরাজয়টাই আমাকে প্রতি ক্ষণে দগ্ধ করে। কারণ এই হারের পর কেউ পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেয় না, কেউ বলে না—"খুব ভালো করেছ।" আজ এই একাকীত্বের ময়দানে আমি এক পরাজিত সৈনিক, যে নিজের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শুধু তোমার সেই হারানো হাসির প্রতিধ্বনি শুনি।
লেখা:-✍️ ছফিউর রহমান /F:- বিষন্নতার বিলাপ
S