বন্দনা সিংহ রায়
#দ্বিখণ্ডিত মা
দূর আমি চললাম ---বাড়ি থাকলেই শুধু পড় আর কর ---আমি পড়ব না ---বুবাই সাইকেল নিয়ে ঝড়ের বেগে বেড়িয়ে গেল ।
মা পেছন পেছন ছুটে গেল ---এই বুবাই শোন ---যাস না এমনি করে --তোর স্কুল আছে ---সামনে পরীক্ষা ---
ঐভাবে যাস না ---ফিরে আয়।
মায়ের ডাক বুবাইয়ের কানে পৌঁছয়নি । পিছন ফিরেও তাকায়নি ।
ছোট্ট বেলা থেকেই বুবাই যা বলবে তাই করেই ছাড়ে ।স্বাধীন মত চলা ফেরা করে ।
মা তিনজনের জন্য তিনটে ডিম রান্না করলে তিনটেই খেয়ে ফেলে ।
মাংস রান্না করলেও তাই খেতে খেতে সবটাই খেয়ে ফেলে বাবা মার আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য ই করে না ।
মা মাঝে মাঝে বলে এ ছেলে ঠিক বাবার মত হয়েছে ।
বুবাই একদিন মাকে বলে ---কি সব বল তুমি আমার বাবার নামে ?আমার বাবা খুব ভালো ।একদম বাবার নামে কিছু বলবে না ।
মা শুধু হা করে চেয়ে থাকে ছেলের দিকে --অজানা আতঙ্কের ভয়ে ভীত হয়ে থাকে ।
সেই। বুবাই যখন সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে গেল ---মায়ের বুক দুরুদুরু করে উঠল ।
কিছুক্ষণ এর মধ্যে খবর এল বুবাই এ্যাকসিডেন্ট করেছে ---ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পেল বুবাই বেডে শুয়ে আছে ।কোনো সাড়া নেই ।পায়ে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা।
ডাক্তার বলল অপারেশন করতে হবে এক্ষুনি ।বুবাইয়ের মা কেঁদে ফেলল ---ডাক্তার বাবু আমার ছেলে ভালো হবে তো ?
ডাক্তার বাবু বললেন---আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করছি---বাকিটা ঈশ্বরের হাত ।অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া হল বুবাই কে ---বাইরে বাবা মা আত্মীয়স্বজন উন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে র ইল ।প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর অপারেশন শেষ হল ।
ডাক্তার বাবু বললেন অপারেশন সাকসেস ফুল ডান হাটু ভেঙে গেছিল আর মাথায় কিছু ছোট লেগেছে ।
কিছুক্ষণ বাদে বুবাই কে বেডে দেওয়া হল অক্সিজেন আর সালাইন লাগানো রয়েছে ।কেমন একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে ।
মা বাবা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এল ।প্রায় মাসখানেক বাদে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরল বুবাই ।আগের মত হাটতে পারে না ।
হাসপাতাল থেকে বলে দিয়েছে---পায়ে বরফ লাগাতে ---ওদের বাড়িতে ফ্রিজ ছিল না---তাই আশেপাশের বাড়ি থেকে ওর মা বরফ এনে দুইবেলা বরফ লাগাত ।
মা কান্নাকাটি করে সবার কাছে বলত কবে আমার ছেলের পা ভালো হবে ।
সংসারের কাজ করতে করতে ছেলের কাছে চলে যেত ---মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কান্নাকাটি করত ।
একদিন বুবাই খুব রেগে গেল ---চিৎকার করে বলে উঠল---
তুমি বেড়িয়ে যাও আমার সামনে থেকে ।মা ঘর থেকে চলে গেল ।।
কিছু সময় পরে আবার ঘরে আসতেই বুবাই মাকে হাত ধরে খোড়াতে খোড়াতে ঘরের ঘরের বাইরে বার করে দিয়ে এল ---চিৎকার করে বলে উঠল তোমাকে অনেক সহ্য করেছি ---আর তুমি আমার ঘরে একদম ঢুকবে না ।
মা বেড়িয়ে গেল ঘর থেকে --তাও জানলা দরজার ফাঁক দিয়ে ছেলেকে দেখতে লাগল ।
বুবাই আবার দেখতে পেয়ে এবার রাস্তায় বার করে দিয়ে গেল --তুমি একদম বাড়িতে ঢুকবে না ---চলে যাও বাড়ি ছেড়ে --
ছেলের এই কান্ড দেখে মা কেঁদে ফেলল ---কেন করছিস বাবু এই রকম ।
তাও কিছু পরে আবার মা ঘরে যায় ---বুবাই এবার মায়ের হাতে কেরোসিন তেল আর দেশলাই হাতে দিয়ে বলে তুমি পুড়ে মরগে যাও ।
মা এক মুহুর্তের জন্য থমকে দাড়িয়ে পড়ে----বলে বাবু তুই আমাকে মরতে বলছিস !!!!
কেন কেন কি অপরাধ করেছি ---বল না ??
বুবাই বলে ওঠে জানো না? কি করেছ তুমি ??
আমার জীবন টাকে নিয়ে ??
মা স্তব্ধ হয়ে গেল ---ধীর পায়ে চলে গেল ----আস্তে আস্তে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল ---গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেশলাই কাঠি জ্বেলে দিল ---মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল সারা শরীর ।
সবাই ছুটে গেল ---ততক্ষণে সর্বাঙ্গ ঝলসে গেছে ---অ্যাম্বুলেম্স করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল ----
নিয়ে যাবার সময় মা চিৎকার করে বলতে বলতে গেল ----আমার বুবাই কে কেউ কিছু বলবে না ।বাঁচানো গেল না ---সেই রাতেই সব শেষ ।
বুবাই কে সবাই দোষারোপ করতে লাগল ---কি জঘন্য ছেলে---মা কে মেরে ফেলে----তবুও মায়ের জন্য কেউ আর পুলিশের কাছে কিছু বলেনি ।
মাকে বাড়িতে নিয়ে আসলে বুবাই কাঁদতে কাঁদতে বলে ---ওমা তুমি ফিরে এস মা আমি আর করব না
সেই রাতে বুবাই কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে ।
হঠাৎ ঘরে যেন কেউ চলাফেরা করছে মনে হল ।দেখল একটি ছায়া মূর্তি আসতে আসতে তার মাথার কাছে দাঁড়াল ।ডেকে উঠল বাবু ।
বুবাই বলে উঠল মা তুমি এসেছ মা মাগো ওওও
তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা মা ।
ছায়া মূর্তি বলে উঠল বাবু তুই খুব কষ্ট পাস তাইনা ?
বলত ---তুই আমার সঙ্গে ঐরকম কেন করলি ----
সেতো অনেক কথা মা ---আমি যে তোমার সম্পর্কে--
অনেক কিছু জেনে ফেলেছি মা ।
তুমি কেন অমন করেছিল বল ?তোমার উপর আমার ঐজন্য খুব রাগ হয়েছিল ।
আমি সহ্য করতে পারছিলাম না ।
বাবু তুই কি জেনেছিস বল আগে ।
মা কয়েকদিন আগে আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন এক ভদ্রলোক মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায় ।আমি তাকে সাহায্য করতে ছুটে যাই ।উঠে দাড়াতে পারছিল না ।
সে বলল তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে ---তার বাড়িতে গিয়ে যখন ঘরে ঢুকলাম দেখলাম অগোছালো ঘর দোর ।
দেওয়ালে অনেক ছবি ঠাঙানো ।একটা ছোট্ট বাচ্চা ছেলের ছবি ।
টেবিলের উপর একটা ফ্রেমের ছবির দিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠলাম ।
ঐ ভদ্রলোক তার ছেলে আর আর জানোমা কাকে দেখলাম?---
তোমাকে মা ---তোমাকে --ছবিটা অনেক দিনের হলেও---তোমাকে চিনতে অসুবিধা হয় নি।
আমার মাথাটা কেমন ঘুরে উঠল---এ আমি কাকে দেখছি ??
ঐ মানুষটি কিছু একটা আন্দাজ করেছিল---বলল ---তুমিকি এদের চেন ?
আমি বললাম--কে হয় আপনার?
উনি বললেন---আমার ছেলে আর বৌ ।
বললাম কোথায় ওনারা?----দেখতে পাচ্ছি না তো?
উনি একটা দীর্ঘশ্বাস; ছেড়ে বললেন-- ---জানিনা কোথায় ?
আমার বৌ একদিন আমাকে ছেড়ে আমার ছেলেকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
তারপর অনেক খোঁজ করেছি ---পাইনি ---কোথায় যে চলে গেল আমাকে একা করে ফেলে ।-
সেই ছেলে এতদিনে ঠিক তোমার মত বড় হয়েছে।
সেই মূহুর্তে মা আমার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল ।
আমার কিছুই বুঝতে বাকি র ইল না ।---সেদিন আমি টলতে টলতে বাড়ি ফিরে ছিলাম---।
আমি তোমাকে সহ্য করতে পারছিলাম না--
কথায় কথায় বলতে বাবার মত হয়েছিস আমার মনে হত তুমি তোমার সবকিছু মেকি ।
কেন এমন করেছিলে মা ---
আজ আমি এসেছি সবকিছু বলব বলে ---
বাবু তুই যদি ----সবকিছু জানতিস ---তাহলে আমার সম্পর্কে ভুল ধারণা ভেঙে যেত।
ঐ মানুষটা একটা পিশাচ বাবার ছিল পাথর টাইলসের ব্যবসা ছিল ।
ভালোই চলত ।আমি থাকতাম হোষ্টেলে ।
।সেদিন সন্ধ্যা বেলায় বাবা দোকানে বসেছিল একটি একটি ছেলে এসে দাঁঁড়ালো হাতে পায়ে মারধরের কাটা দাগ ।
বলল বাবু আমাকে একটু থাকতে দেবে ---আমি তোমার সব কাজ করে দেব ।
বাবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল---এই টুকু বাচ্চা ছেলে তুই কি কাজ করবি ?
কোথায় থাকিস-?তোর তো এখন লেখা পড়া করার সময়--
তোকে এই ভাবে কে মারল ?হাতে পায়ে কাটা ---রক্তের দাগ?
বলব ---সব বলব ---আগে বল ---আমাকে আর ফেরত পাঠাবে না ,---আমি সেখানে ফেরত যেতে চাই না---আমাকে খুব মারে --খেতে দেয় না ।
ঠিক আছে---তোর সব কথা খুলে বল ।
বলছি ---আমার মা ছোট্ট বেলায় মারা যায়---বাবা আবার বিয়ে করে আমাকে দেখা শোনার কেউ ছিল না বলে ।নতুন মা ভালোই বাসত ।তারপর আমার একটা ছোট্ট ভাই হল ---আমি খুব ভালো বাসতাম ---ওর সঙ্গে খেলা করতাম ।একদিন খেলতে খেলতে ভাই আমার কাছ থেকে পড়ে যায় ---ভাই খুব কাঁদতে থাকে।
মা ছুটে এসে ভাইকে কোলে তুলে বলতে থাকে---তুই ফেলে দিলি ---ইচ্ছে করে ফেলে দিয়েছিস ---হিংসা হয়েছে---হিংসা ---সহ্য করতে পারলি না ---না ---এত বড় বদমাশ---ভেবেছিস ---ভাই তোর সব কিছর ভাগ বসাচ্ছে?
একাই তুই সব কিছুর ভোগ করবি---যদি ভাইকে সরিয়ে দেওয়া যায়---তাইতো----বলে মা আমাকে লাঠি দিয়ে মারতে লাগল ---যতই বলি ---আমি ইচ্ছে করে করিনি---হাত থেকে পড়ে গেছে ---কিছুতেই বিশ্বাস করল না ।
সেই থেকে শুরু ---আমার উপর অত্যাচার --ভাইকে ধরতে দিতনা ---বাবার কাছে যেতে দিতনা ---ঘরের কাজ করাত ।বাবা রাতের বেলায় এসে জিজ্ঞেস করত ---কিরে লেখা পড়া করছিস ঠিক মত---আমি ঘাড় নেড়ে শুধু বলতাম হ্যা ---কিন্তু আমাকে স্কুলে যেতে দিত না ।ভালো করে খেতে ও দিত না ।
আজকে খুব খিদে পেয়েছিল বলে ভাইয়ের দুধের কৌট থেকে একটু দুধ খেয়েছিলাম---মা দেখে ফেলেছিল ---লাঠি দিয়ে খুব মেরেছে---বলছে ভাইয়ের খাবারে হাত দিয়েছিস ---ঐ হাত তোর আমি ভেঙেই ফেলব ---বলে খুব মারতে লাগল---আমি সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে এসেছি ।
ঠিক আছে তুই আমার কাছেই থাকবি---আমার বাড়িতে ছেলের মত হয়ে---তবে তোকে কাজ করতে হবে না---লেখা পড়া শিখতে হবে ।
কথা দে ---লেখা পড়া শিখবি ?
একদিন বাবা ওর গ্ৰামে গিয়েওদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সব খবর নিল।বুঝতে পারল ও কিছু ভুল বলেনি।
তারপর ওকে নিয়ে ওর বাবার সাথে দেখা করতে গেল বাবার অফিসে---
দেখল ভদ্রলোক খুব নিরীহ মানুষ---ছেলেকে দেখেই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল---কোথায় ছিলিস এতদিন ?
বাবা বলে উঠল---আপনি ছেলের খবর রাখতেন?
ছেলে কেমন আছে কি করছে?
ভদ্রলোক মাথা নিচু করে র ইলো ---বলল না ---আমি সারাদিন পরে বাড়ি ফিরি ।সত্যিই আমি বুঝতে পারিনি কিছু ---পরে ও বাড়ি থেকে চলে গেলে সবকিছু জানতে পারি।
ঠিক আছে আজ থেকে আপনার ছেলের সব দায়িত্ব আমার।তবে আগে আপনার মতামত দরকার।
উনি হাত জোর করে বললেন---তাই নিন -দাদা আমার ছেলেটা বাঁচুক ।আমি বাবা হয়ে পারলাম না ছেলেকে বাঁচাতে।
শুরু হল নতুন জীবন ।বাবা ওকে ছেলের মত মানুষ করতে শুরু করল ।প্রথমেই একটা স্কুলে ভর্তি করালো ।প্রতি দিন বাবার গাড়ি চড়ে স্কুলে যেত ।বাড়িতে টিচার এসে পড়িয়ে যেত ।বাবার সাহচর্যে আর টিচারের পড়াশোনায় লেখা পড়ায় ভালোই হয়ে উঠেছিল । ।কোনো কিছুর অভাব রাখেনি; ।মাও খুব ভালোবাসত নিজের ছেলের মত ।
ওর নাম ছিল পার্থ । বাবার ব্যবসায় যাতে সহযোগিতা করতে পারে ।বড় হলে এমবিএ কোর্সে ভর্তি করিয়ে দিল ।
সফলতার সাথে পাশ করে বেড়িয়ে এল ।।
আমি ও ততদিনে কলেজ শেষ করে ফেলেছি
একদিন বাবা আমার ঘরে এসে বলল ---তোমাকে এবার বিয়ে দেব ---পার্থর সঙ্গে ।ওকে চিরকালের মত আপন করে নিতে চাই ।আর আমার সব কিছু ওর হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাই ।।
তুমি কি রাজি ---আমি কিছুক্ষণ চুপ করে ভাবলাম---আমার কি করা উচিত ---বাবাতো মনস্থির করেই ফেলেছে ।আমার রাজি হোওয়া ;---না হোওয়ার কোনো লাভ নেই ।
আমি বলে ফেললাম---বাবা আমি রাজি; ।
বাবা পার্থকে ডেকে বলল---পার্থ এবার তোমাকে আরো নিজের করে নিতে চাই; আমার মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে দেব ---বল রাজী?
পার্থ যেন এমন একটা প্রস্তাবের জন্য মুখিয়েই ছিল --খুশিতে ডগমগ হয়ে বলে উঠল ---হ্যা আমি রাজি।
পঞ্জিকা তারিখ দেখে ধূমধাম করেই বিয়ে হয়ে গেল।
বেশ কিছুদিন বেশ আনন্দে হৈহুল্লড়ে কেটে গেল;
পার্থ বাবার ব্যবসা দেখা শোনা করে; ।বাবাও থাকে ওকে সব বুঝিয়ে দেয় ।দুজনের মিলিত প্রয়াসে ব্যবসা ফুলে ফেপে উঠল ।বাবার পার্থর উপর আরো আস্থা জন্মে গেল।
একদিন পার্থ এসে বলর বাবা তুমি এখানে এসে কি করবে---আমিই সব দেখা শোনা করব --তুমি আর মা শান্তিতে বিশ্রাম নাও ঘুরে ফিরে বেড়াও ।এই সব দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দাও ।বাবা অবাক হয়ে বলে উঠল --কি বলছ ---আমি সবকিছু তোমার উপর ছেড়ে দেব ?
না না তা পারব না ---এতদিন ধরে করে এলাম ---এখন সবকিছু ছেড়ে ঘরে বসে থাকব ?এ হয়না ।
পার্থ একটু মনঃক্ষুন্ন হল ।--
তখন কার মত চলে গেল; ।বেশ কিছুদিন চুপচাপ ।
তারপর একদিন পার্থ রাতের বেলা বাড়ি ফিরে এসে আমাকে বলে ---বাবাকে বল আমাকে ব্যবসা লিখে দিতে ।
আমি বললাম---সে আবার কি ? বাবার ব্যবসা সেতো আমাদেরই---লিখে দিতে হবে কেন ---পার্থ রেগে গেল ।
যা বলছি তাই কর -----বেশি কথা বলবেনা ।
পার্থ আস্তে আস্তে সমগ্ৰ ব্যবসা টাকে নিজের করায়ত্ব করে নিচ্ছিল ।দুহাতে পয়সা ওড়াচ্ছিল ।বাবা হিসাব চাইলেই বলত ---কি করবে হিসাবে নিয়ে --খাচ্ছ ঘুমাচ্ছ ঘুরে বেড়াচ্ছ তাই নিয়ে থাক ।ওসবের মধ্যে তোমাকে যেতে হবে না ।
সেই সঙ্গে জুটেছিল কিছু ইয়ার দোস্ত ইচ্ছে মত তাদের নিয়ে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াত আর দেদার টাকা পয়সা ওড়াত ।
রাত হলেই চলে যেত কোনো হোটেল বারে ---সেখানে চলত মদের আসর ।অনেক রাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে টলতে টলতে বাড়িতে এসে উঠত ।কখনো বমি করে ভাসাত ।কথার একটু এদিক সেদিক হলেই চুলের মুটি ধরে মারধোর চলত ।
ভয়ে আতঙ্কে শুকিয়ে কাট হয়ে থাকতাম একদিন এমন মার মেরেছিল যে অজ্ঞান হয়ে অনেক ক্ষণ পড়ে ছিলাম ।বাবা মা ছুটে এসেছিল সহ্য করতে না পেরে ।বাবা মাকে বার করে দিয়েছিল ।বলেছিল আমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার এরমধ্যে আসবে না ---একটু পড়েই সোজা হয়ে উঠবে ।
অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তে লাগল ।রোজ রাতে বাড়িতে ফিরে কিছু না কিছু নিয়ে শুরু করত অত্যাচার -;;
একদিন দরজার ফাঁকে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দরজা চিপে দিয়েছিল---চিৎকার করে কঁকিয়ে উঠে ছিলাম আমার লাগছে ছেড়ে দাও ---কি নিষ্টুর তুমি কিছু ক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে ছিল --যন্ত্রনায় ছটফট করছিলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম কি চাও তুমি?
কেন এত অত্যাচার করছ ?
বলেছিল সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিতে বল ।
তবেই ছাড়া পাবে ।
আরেক দিন শীতের রাত --;বাইরে কনকনে ঠান্ডা ঘরে ঢুকে সমস্থ লেপকম্বল পাশের পুকুরের জলে ফেলে দিল ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছি ।
আমাকে মধ্য রাতে;পুকুরের জলে জোর করে নামিয়ে জলের মধ্যে ঠেসে ধরল ।কনকনে ঠান্ডা জল সহ্য করতে পারছি না ।বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছি তখন জল থেকে তুলে মুখ চেপে ধরে ঘরে ঘরে নিয়ে এল ।
আমার বাবা সেই রাতে স্ট্রোক হয়ে মারা গেল ।আমার জীবন আরো নরককুন্ড হয়ে গেল; ।কিছু দিন পর মাও চলে গেল ।
তুই ততদিনে হয়েছিস;। আমার তখন একটাই লক্ষ্য তোকে কি করে মানুষ করব সেই চিন্তা।
সমস্থ সম্পত্তি পেয়ে সে আরো উচ্ছৃংখল হয়ে উঠল ।মহাজন দের ঠিক মত টাকা দিত না ।তারা মালপত্র দেওয়া বন্ধ করে দিল ।কর্মচারীদের মাইনে ও ঠিক মত দিত না মাইনে চাইলেই মারধর করত ।
কর্মচারীরাও একদিন ক্ষেপে উঠলো;----
মাইনে না দিলে ---
কাজ করবে না; বলে
তারাও কাজ করতে অস্বীকার করে দিল;।
তার দুব্যবহারে ব্যাবসা আস্তে আস্তে পড়ে যেতে শুরু করল ।
পয়সার অবস্থা ও সঙ্গীন; ।
তার দুরাবস্থায় বন্ধুরাও ফেলে পালাল ।
থেকে গেল মুষ্টিমেয় কয়েকজন যাদের যাবার আর কোনো জায়গা নেই ।
তখন একদিন বলে ছিলাম----দেখলেতো বিপদের দিনে তোমার সাথে আজ আর কেউ নেই ।
আমার বাবার কাছে কি অবস্থায় তুমি এসেছিল??
নিঃস্ব অবস্থায় !!!
আমার বাবা সমস্ত কিছু দিয়ে তোমাকে মানুষ করেছিল নিজের ছেলের মত !!!
আর তুমি সব শেষ করে দিলে?
আজ তুমি আবার নিঃস্ব ।
আজ তোমার পাশে কেউ নেই --;
সবাই সব নিয়ে পালিয়ে ছে ।
তোমার জীবনে আরো অভিশাপ নেমে আসবে ।তোমার অভিশপ্ত জীবন ।
কাউকে পাবে না ----কাউকে পাবেনা কাউকে নয় ।
সেই রাতে ঘটল আরো একটা অঘটন -----------
-----------যেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না --------ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটবে ।
মধ্য রাত তোকে ঘুমাচ্ছিলাম --------
হঠাৎ পাশের ঘরে ফিসফাস আওয়াজ ---;---
আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ----- --
উঠে বসলাম বিছানায় -----শোনবার চেষ্টা করলাম টুকটাক কথা ভেসে আসছে ---
আস্তে আস্তে দরজার কাছে এগিয়ে গেলাম -----পরিষ্কার শুনতে পেলাম ------
আমাকে বিক্রি করে দেবার পরিকল্পনা চলছে ।
রাতের অন্ধকারে আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে একটা হোটেলে -----সেখানে দুটো লোকের হাতে আমাকে তুলে দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে
।
তারপর আরো যা শুনলাম ------
নিজের কানকে ও বিশ্বাস হয়নি রে -----------
একজন বলছে বাচ্চাটাকে কি করব ???
তোর বাবা বলছে ----;
হ্যা; রে তোর জন্মদাতা পিতা বলছে -----
বাচ্চা টাকে কোনো জঙ্গল টঙ্গলে ফেলে দিতে;
নাহলে -;--------
গলা টিপে মেরে দিবি -----বিশ্বাস কর তুই ------
সেদিন আমার জন্য নয় রে ------
তোর জন্য ----তোকে বাঁচানোটাই আমার প্রধান
লক্ষ্য হয়ে উঠলাম ------
আমি আস্তে আস্তে বিছানার কাছে গিয়ে তোকে আলতো করে তুলেনিলাম ।;
পা টিপে টিপে দরজার কাছে গিয়ে ----;;দরজা খুলে বাইরে থেকে শিকল তুলে দিলাম ।
শুধু ভয় হচ্ছিল তুই যদি ঘুম ভেঙে কেঁদে উঠিস তাহলেই সর্বনাশ।
সেদিন বোধহয় বিধাতা একটূ সাহায্য করেছিল;।
তুই একটু ও কাঁদিস নি ।
তারপর রাস্তা দিয়ে ছুটতে লাগলাম ----;;;
থেকে থেকেই পেছন ফিরে দেখছিলাম -----কেউ আসছে নাকি ;
সেই সময় এক ভদ্রলোক রাস্তা দিয়ে আসছিল ।উনি
আমাকে দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইলেন ------কি ব্যাপার এতরাতে এইভাবে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছেন;
আমি তাকে দেখে আকুল হয়ে বলে ফেললাম ------
আমাকে বাঁচান ----ওদের হাত থেকে -----উনি জানতে চাইলেন কি হয়েছে ।
আমি বললাম পরে বলছি আগে আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন না হলে ওরা এসে পরবে ।
উনি একটু চিন্তা ভাবনা করে বললেন আমার সাথে আসুন -------পাশেই একটা বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন ।
এক ভদ্রমহিলা বেড়িয়ে এলেন দরজা খুলে ---- উনি অবাক হয়ে জানতে চাইলেন -----কি ব্যাপার এত রাতে ?তারপর আমার দিকে উঁকি দিয়ে অবাক চোখে চেয়ে র ইলেন কিছু সময় ।
বৌদি পরে সব বলছি -----আগে একটু ঘরে বসতে দিন -----বড়ই বিপদ -----এই মহিলাটিকে একটু আশ্রয় দিন ।
তারপর ওনার ঘরে গিয়ে বসতেই আগে তোকে একটা বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আমাকে নিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে বসল ।
ওনারা এবার আমার কাছে জানতে চাইলেন কি হয়েছে খুলে বলুন --------
আমি তখন সবকিছুই সবিস্তারে বলে ফেললাম ।
ওনারা অবাক হয়ে শুনলেন ------কি সাংঘাতিক !!!!
আপনার পুলিশে যাওয়া উচিত ছিল।
আমি বললাম কিছুই হত না !!পুলিশ আবার ঐখানেই বুঝিয়ে শুনিয়ে পাঠাত ।আমি আর ওর কাছে ফিরে যাব না; ।আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম; ।
পার্থ আস্তে আস্তে সমগ্ৰ ব্যবসা টাকে নিজের করায়ত্ব করে নিচ্ছিল ।দুহাতে পয়সা ওড়াচ্ছিল ।বাবা হিসাব চাইলেই বলত ---কি করবে হিসাবে নিয়ে --খাচ্ছ ঘুমাচ্ছ ঘুরে বেড়াচ্ছ তাই নিয়ে থাক ।ওসবের মধ্যে তোমাকে যেতে হবে না ।
সেই সঙ্গে জুটেছিল কিছু ইয়ার দোস্ত ইচ্ছে মত তাদের নিয়ে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াত আর দেদার টাকা পয়সা ওড়াত ।
রাত হলেই চলে যেত কোনো হোটেল বারে ---সেখানে চলত মদের আসর ।অনেক রাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে টলতে টলতে বাড়িতে এসে উঠত ।কখনো বমি করে ভাসাত ।কথার একটু এদিক সেদিক হলেই চুলের মুটি ধরে মারধোর চলত ।
ভয়ে আতঙ্কে শুকিয়ে কাট হয়ে থাকতাম একদিন এমন মার মেরেছিল যে অজ্ঞান হয়ে অনেক ক্ষণ পড়ে ছিলাম ।বাবা মা ছুটে এসেছিল সহ্য করতে না পেরে ।বাবা মাকে বার করে দিয়েছিল ।বলেছিল আমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার এরমধ্যে আসবে না ---একটু পড়েই সোজা হয়ে উঠবে ।
অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তে লাগল ।রোজ রাতে বাড়িতে ফিরে কিছু না কিছু নিয়ে শুরু করত অত্যাচার -;;
একদিন দরজার ফাঁকে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দরজা চিপে দিয়েছিল---চিৎকার করে কঁকিয়ে উঠে ছিলাম আমার লাগছে ছেড়ে দাও ---কি নিষ্টুর তুমি কিছু ক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে ছিল --যন্ত্রনায় ছটফট করছিলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম কি চাও তুমি?
কেন এত অত্যাচার করছ ?
বলেছিল সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিতে বল ।
তবেই ছাড়া পাবে ।
আরেক দিন শীতের রাত --;বাইরে কনকনে ঠান্ডা ঘরে ঢুকে সমস্থ লেপকম্বল পাশের পুকুরের জলে ফেলে দিল ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছি ।
আমাকে মধ্য রাতে পুকুরের জলে জোর করে নামিয়ে জলের মধ্যে ঠেসে ধরল ।কনকনে ঠান্ডা জল সহ্য করতে পারছি না ।বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছি তখন জল থেকে তুলে মুখ চেপে ধরে ঘরে ঘরে নিয়ে এল ।
আমার বাবা সেই রাতে স্ট্রোক হয়ে মারা গেল ।আমার জীবন আরো নরককুন্ড হয়ে গেল; ।কিছু দিন পর মাও চলে গেল ।
তুই ততদিনে হয়েছিস । আমার তখন একটাই লক্ষ্য তোকে কি করে মানুষ করব সেই চিন্তা।
সমস্থ সম্পত্তি পেয়ে সে আরো উচ্ছৃংখল হয়ে উঠল ।মহাজন দের ঠিক মত টাকা দিত না ।তারা মালপত্র দেওয়া বন্ধ করে দিল ।কর্মচারীদের মাইনে ও ঠিক মত দিত না মাইনে চাইলেই মারধর করত ।
কর্মচারীরাও একদিন ক্ষেপে উঠলো;----
মাইনে না দিলে ---
কাজ করবে না; বলে
তারাও কাজ করতে অস্বীকার করে দিল; ।
তার দুব্যবহারে ব্যাবসা আস্তে আস্তে পড়ে যেতে শুরু করল ।
পয়সার অবস্থা ও সঙ্গীন ।
তার দুরাবস্থায় বন্ধুরাও ফেলে পালাল।
থেকে গেল মুষ্টিমেয় কয়েকজন যাদের যাবার আর কোনো জায়গা নেই ।
তখন একদিন বলে ছিলাম----দেখলেতো বিপদের দিনে তোমার সাথে আজ আর কেউ নেই ।
আমার বাবার কাছে কি অবস্থায় তুমি এসেছিল??
নিঃস্ব অবস্থায় !!!
আমার বাবা সমস্ত কিছু দিয়ে তোমাকে মানুষ করেছিল নিজের ছেলের মত !!!
আর তুমি সব শেষ করে দিলে?
আজ তুমি আবার নিঃস্ব ।
আজ তোমার পাশে কেউ নেই --;
সবাই সব নিয়ে পালিয়ে ছে ।
তোমার জীবনে আরো অভিশাপ নেমে আসবে ।তোমার অভিশপ্ত জীবন ।
কাউকে পাবে না ----কাউকে পাবেনা কাউকে নয় ।
সেই রাতে ঘটল আরো একটা অঘটন -----------
-----------যেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না --------ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটবে ।
মধ্য রাত তোকে ঘুমাচ্ছিলাম --------
হঠাৎ পাশের ঘরে ফিসফাস আওয়াজ ---;---
আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ----- --
উঠে বসলাম বিছানায় -----শোনবার চেষ্টা করলাম টুকটাক কথা ভেসে আসছে ---
আস্তে আস্তে দরজার কাছে এগিয়ে গেলাম -----পরিষ্কার শুনতে পেলাম ------
আমাকে বিক্রি করে দেবার পরিকল্পনা চলছে ।
রাতের অন্ধকারে আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে একটা হোটেলে -----সেখানে দুটো লোকের হাতে আমাকে তুলে দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে
।
তারপর আরো যা শুনলাম ------
নিজের কানকে ও বিশ্বাস হয়নি রে -----------
একজন বলছে বাচ্চাটাকে কি করব ???
তোর বাবা বলছে ----;
হ্যারে তোর জন্মদাতা পিতা বলছে -----
বাচ্চা টাকে কোনো জঙ্গল টঙ্গলে ফেলে দিবি
নাহলে -;--------
গলা টিপে মেরে দিবি -----বিশ্বাস কর তুই ------
সেদিন আমার জন্য নয় রে ------
তোর জন্য ----তোকে বাঁচানোটাই আমার প্রধান
লক্ষ্য হয়ে উঠল ------
আমি আস্তে আস্তে বিছানার কাছে গিয়ে তোকে আলতো করে তুলে
পা টিপে টিপে দরজার কাছে গিয়ে ----;;দরজা খুলে বাইরে থেকে শিকল তুলে দিলাম ।
শুধু ভয় হচ্ছিল তুই যদি ঘুম ভেঙে কেঁদে উঠিস তাহলেই সর্বনাশ; ।
সেদিন বোধহয় বিধাতা একটূ সাহায্য করেছিল; ।
তুই একটু ও কাঁদিস নি ।
তারপর রাস্তা দিয়ে ছুটতে লাগলাম ----;;;
থেকে থেকেই পেছন ফিরে দেখছিলাম -----কেউ আসছে নাকি
সেই সময় এক ভদ্রলোক রাস্তা দিয়ে আসছিল ।উনি
আমাকে দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইলেন ------কি ব্যাপার এতরাতে এইভাবে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছেন;
আমি তাকে দেখে আকুল হয়ে বলে ফেললাম ------
আমাকে বাঁচান ----ওদের হাত থেকে -----উনি জানতে চাইলেন কি হয়েছে ।
আমি বললাম পরে বলছি আগে আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন না হলে ওরা এসে পরবে ।
উনি একটু চিন্তা ভাবনা করে বললেন আমার সাথে আসুন -------পাশেই একটা বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন; ।
এক ভদ্রমহিলা বেড়িয়ে এলেন দরজা খুলে ---- উনি অবাক হয়ে জানতে চাইলেন -----কি ব্যাপার এত রাতে ?তারপর আমার দিকে উঁকি দিয়ে অবাক চোখে চেয়ে র ইলেন কিছু সময় ।
বৌদি পরে সব বলছি -----আগে একটু ঘরে বসতে দিন -----বড়ই বিপদ -----এই মহিলাটিকে একটু আশ্রয় দিন ।
তারপর ওনার ঘরে গিয়ে বসতেই আগে তোকে একটা বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আমাকে নিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে বসল ।
ওনারা এবার আমার কাছে জানতে চাইলেন কি হয়েছে খুলে বলুন --------
আমি তখন সবকিছুই সবিস্তারে বলে ফেললাম ।
ওনারা অবাক হয়ে শুনলেন ------কি সাংঘাতিক !!!!
আপনার পুলিশে যাওয়া উচিত ছিল ।
আমি বললাম কিছুই হত না !!পুলিশ আবার ঐখানেই বুঝিয়ে শুনিয়ে পাঠাত ।আমি আর ওর কাছে ফিরে যাব ন ।আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম ।
ভদ্রলোক বলল বৌদি-----আজকের মত আপনার কাছে রেখে দিন।কালকে দেখছি কি করা যায় ।
সেদিন রাতে উৎকন্ঠায় ঘুম আসল না -----ভাবছিলাম কালকে কি হবে ?কোথায় যাব ??
পরের দিন সকালে ভদ্রলোক এসে বলল ------বৌদি -------ওনাকে কিছু দিন আমাদের গ্ৰামের বাড়িতে রাখার দরকার ------কিছু দিন আড়ালে থাকতে হবে ।
ওরা নিঃশ্চয় ক্ষ্যাপা কুকুরের মত খুঁজে বেড়াচ্ছে ।সেদিন ঐ ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলার সাথে ট্রেনে চড়ে বসলাম ।
এদিক সেদিক ভয়ার্থ চোখ নিয়ে তাকাচ্ছিলাম -----যদি এসে পড়ে ??
কি হবে তাহলে ??
ওরা আমাকে সাহস যুগিয়ে যাচ্ছিল -----কিছু হবে না ------আমরা আছি কিকরতে ?
কিছু ক্ষন পর ট্রেন ছাড়ল ------
আমার যেন বুকে প্রাণ আসল ।
এবার কোথায় যাচ্ছি না -------জানবার কৌতূহল হল -------
বললাম দিদি আমরা কোথায় যাচ্ছি??
দিদি বলল ভয় নেই তোমার যেখানে যাচ্ছ সেখানে কোনো ভয় নেই -----নিঃশ্চিন্ত মনে থাকতে পারবে ।এই দাদার বাড়িতে ------সেখানে দাদার বাবা মা আছে -----খুব ভালো থাকবে ।
হ্যারে সেই মুহূর্তে একটা নিঃশ্চিন্ত একটা আশ্রয়ের দরকার যেখানে তোকে নিয়ে থাকতে পারব ।
পৌঁছালাম নির্দিষ্ট স্থানে ----দেখলাম গ্ৰামের মধ্যে সুন্দর ছোট্ট একটা বাড়ি; বাবা দেখলাম খুব সাধাসিধে ও খুব হাসিখুশি দেখে মনপ্রাণ সবটুকু ঢেলে দিলাম প্রণাম করে ডেকে উঠলাম -------
----------মা --------
তিনি আদর করে নিজের মেয়ের মত
B