ছেলেটি যখন ভালোবাসার কাঙাল ছিল ,
কুসুম বাগে কেঁদে উঠেছিল কি মুছে যাওয়া সভ্যতা ?
মনে পড়েছিল রঙিন ভেলার খেলা ,
যার ছড়াছড়িতে মেতে থাকতো দুজনেই ।
মেয়েটির ভেজা চুলের ভাঁজে হাত বুলিয়ে বলেছিল ছেলেটা ,
জানো ; আমার একটু কথা বাঁশরী জানে ,
একটু কথা কন্ঠ জানে ,
আর একটু কথা সঙ্গীত জানে ।
ভেবেছিলাম , জানাব আজ তোমায় ।
ভেবেছিলাম পথের সাথী আজ তুমি হবে ,
তোমার কন্ঠ আমায় মাতাল করে উদাসীনতায় ঘিরবে ।
ভেবেছিলাম দুলে উঠবে আবার সেই রঙিন ভেলা ,
প্রাণ পেয়ে জাগবে জমে থাকা অনেক খেলা ।
কংক্রিটের জঙ্গলে পেয়ে যাবো একে অপরের
স্পর্শ ,
তোমার আমার মিলনে প্রকৃতিও হবে বিমর্ষ !
রাস্তার ইটের খাপে খাপে খুঁজে নেবো ফেলে আসা অতীত ,
বাগানের ফুলের উগ্র হবে গন্ধ ।
কৃষ্ণচূড়ার লালে রঞ্জিত করবো তোমার সিথি ;
আলোর স্রোতে সাজলো প্রজাপতি
সন্ধ্যার বাতাস উষ্ণ করলো সন্ধ্যা মালতি ।
কিন্তু , হলো না ! কিছুই হলো না-
রয়ে গেলো শুধু স্বপ্নে ঘেরা বাস্তবতা ।
শোনা গেলো বিচ্ছিন্নতার চীৎকার ,
চোখে সামনে ছড়িয়ে গেল অন্ধকার ।
থেকে গেল শুধু তোমার ভেঁজা চুলের আকর্ষণতা ,
থেকে গেল তোমার ঠোটের লালিমা ।
সেই ভালোবাসা আজ বিদায়ী আনন্দে মাতোয়ারা ,
সেই চিরনিদ্রিত মুখেও যেন আছে উল্লাসের চাপ ।
হলুদ শারীর মাঝে তোমার দেখেছিলাম ,
দেখেছিলাম তোমার শেষ যাত্রা ।
লাল হলুদের ফুলে সাজিয়েছিলাম তোমার শেষ শয্যার শকট ,
মৃত্যুর উৎকৃষ্টতা নিয়ে থেকে গেলে তুমি আমার নিকট ।
বলা হয়নি সেই একটু কথা
লবণাক্ত জলে সিক্ত আজ সেই কথা ।।
-উর্মি সাহা
©urmisaha
U