*_🙏🏻 জয়গুরু 🙏🏻_*
*ইষ্ট-প্রতিষ্ঠার আড়ালে কখনো কখনো নিজের কঠিন Ego ও স্বার্থ-প্রতিষ্ঠার ধান্ধা মনে স্থান করে নেয়-- তখনই দ্বন্দ ও বিভেদ খুব বেশী মাথা চাড়া দেয়।*
---যে আমি এত বড় কর্মী, সর্বজন পরিচিত ভক্ত, গুরু পরিবারের এত ঘনিষ্ঠ একজন ব্যাক্তি,- আমার ব্যাক্তিগত ভাব ও ইচ্ছা তুমি গ্রহন করবে না কেন? আমার কথা মানতেই হবে৷ কোন প্রশ্ন করা যাবেনা, ভিন্ন মত ব্যাক্ত করা যাবেনা, আমার মতের বিরুদ্ধে যেতেই পারবেনা। নতুবা,- হুমকি, ধমকি, গালিগালাজ, নিন্দা, অপপ্রচার এইসব সহ্য করতে হবে। আমার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলালেই তুমি আমার প্রিয়, খুব ভাল মানুষ। কিন্তু যদি আমার হ্যাঁ তে হ্যাঁ না কর, কথায় কথায় মাথা নাড়িয়ে" আজ্ঞে আজ্ঞে" না কর, তবে তুমি নিকৃষ্ট, জঘন্য, ইষ্টবিরোধী।
আমি খুব ইষ্টকাজ করছি, দুইদিন পর পর আচার্য্যদেবের সঙ্গ করছি, সারাদিন ঠাকুর ঠাকুর করছি, সাদা ধুতি ফতুয়া গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি৷ কিন্তু আদৌ তাঁকে কতটুকু ভালবাসি, নিজের ভিতরে কতটুকু তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করছি, ভাবার খুব প্রয়োজন। আমি আমার নিজের কথাই বলছি।
আমি যদি শ্রীশ্রীঠাকুর, পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআর্চায্যদেব ও পূজনীয় অবিনদাদাকে প্রকৃতই ভালবাসি, যদি সত্যিই তাঁর প্রতিষ্ঠা আমার একমাত্র ধান্ধা হয়ে থাকে, তবে তো সবার প্রথমে আমার ভিতরে প্রেম সৃষ্টি হবে৷ আমার আচরনে শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি, শিষ্টাচার,শালীনতা, অকপটতা, স্বচ্ছতা প্রকাশ পাবে৷ ভালবাসার নাটক নয়,- ভালবাসা সৃষ্টি হবে।
মিথ্যা কথা বলে কাউকে বদনাম করা, কারো সাথে অশ্রদ্ধাপূর্ন ও অশালীন ব্যাবহার করা, পেছন পেছন প্রতিনিয়ত কারো বিরুদ্ধে মনগড়া নোংরা কথা প্রচার করা, গুরুজনদের অবজ্ঞা অশ্রদ্ধা করা, ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে কাউকে যখন তখন অপমান করা, অশ্লীল কথা বলা, রাস্তাঘাটে মানুষের সাথে চিৎকার করে অসভ্য আচরন করা, মিথ্যা কথা বলা, ষড়যন্ত্র করা---এগুলো কখনো একজন ঠাকুরের মানুষের আচরন হতে পারেনা৷
আমাদের নিজেদের একটু ভাবার প্রয়োজন আছে, এমন কোন আচরন আমরা প্রশ্রয় দিচ্ছি কিনা ?
যদি আমার কোন সহকর্মী কোন ভুল করেও থাকে, তাহলে আমি সবার প্রথমে সরাসরি তার সাথে কথা বলে তার ভুল শুধরানো যায় কিনা চেষ্টা করতে পারি, অথবা যাকে দিয়ে বলালে গোপনে এই ভুল শুধরানো যায় তার কাছে বলতে পারি। তা না করে--এই ভুলকে অস্ত্র বানিয়ে তাকে অপদস্ত করার সুযোগ গ্রহন করলাম, তাকে কিভাবে এই ভুলের সূত্র ধরে সবার কাছে ছোট করা যায় সেই প্রচেষ্টায় রত হই। তবে আমার ইষ্ট-প্রতিষ্ঠার ধান্ধা নিয়ে সন্দেহ জাগা উচিত৷
কেউ আমার মতের অনুসরণ করছে না বলেই তাকে কিভাবে সবার চোখে হেয় করে তোলা যায় সেই পরিকল্পনা করতে লাগলাম। তবে আমার ভিতরে ঠাকুর আছেন কি?
আমাদের সবার একটু ভাববার প্রয়োজন।
আমরা সবাই নির্ঝঞ্ঝাট ভালমানুষ থাকতে চাই, নিজের গায়ে যতক্ষন না লাগছে ততক্ষন চুপচাপ ভদ্রলোক সেজে ঘুরে বেড়াতেই পছন্দ করি,- এই কারনে নির্দিষ্ট কয়েকজনের আস্ফালন বৃদ্ধি পায়। যে সংহতিতে ভাঙ্গন ধরাচ্ছে, সংগঠনের ক্ষতি করছে, শান্তভাবে তার ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার সাহস যদি না থাকে, তবে বৃথাই ঠাকুর ঠাকুর করা। প্রতিবাদ না করতে পারলেও--- অন্তত তার সমর্থন তো বন্ধ করতেই পারি৷
(ইষ্ট বার্তা)
©
©ArkaSamant
A