A

Ishta Prosongo

. ননীদা ---- শুনেছি ছোটবেলায় আপনাকে একবার একটা পাগলা কুকুর কামড়েছিল | আপনার তো কিছুই হ'ল না | আপনি কোনরকম চিকিৎসাও করান নি |
শ্রীশ্রীপিতৃদেব ----- হ্যাঁ, সে - ও এক মজার ঘটনা | তখন আমার১৭ বছর বয়স | চৈত্রের মাঝামাঝি | ১৩৩৪ সাল | তখন আমি রোজ তিনবার চান করতাম ---- সকালে, দুপুরে, সন্ধ্যায় | একদিন সকালে চান করে বাড়ী ফিরছি | হঠাৎ পেছনদিক থেকে' কামড়াল - কামড়াল ' ব'লে কয়েকজন লোকের চিৎকার | পেছনে তাকাতে - না - তাকাতেই একটা লাল রঙের কুকুর দিল কামড়ে | সঙ্গে- সঙ্গে রক্তও বের হ'ল | সকলে বলতে লাগল, ক্ষ্যাপা কুকুরে কামড়েছে | বাড়ী এসে কাপড় ছেড়েছি ----- ঠাকুমা দৌড়াতে - দৌড়াতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোকে কুকুরে কামড়েছে ? আমি দেখলাম তখনও রক্ত পড়ছে | ঠাকুমা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন | একটু পরেই ঠাকুর আমায় ডেকে পাঠালেন | ঠাকুর তখন ঠাকুমার কটেজের বারান্দায় ভক্ত - পরিবেষ্টিত হ'য়ে বসে আছেন | আমাকে দেখেই জিজ্ঞাসা করলেন, তোকে নাকি কুকুরে কামড়েছে ? বললাম, আজ্ঞে হ্যাঁ | ----- কোথায় ? দেখি | তিনি দেখতে চাইলেন | দেখালাম ---- দাঁতের দাগ, রক্ত পড়ছে | ঠাকুমা বললেন, সবাই বলছে ওটা পাগলা কুকুর | এখনই ব্রজগোপালের ( দত্ত রায়) সঙ্গে কলকাতা চলে যা | ব্রজগোপাল মাষ্টারমশাই কাপড় প'রে প্রস্তুত হয়েই ছিলেন | ইতিমধ্যে গাঁয়ের কতগুলো লোক দেখি কুকুরটাকে মেরে নিয়ে এসেছে | সবাই বলল, এটা আস্ত পাগলা কুকুর | ঠাকুমা আরও ব্যস্ত হয়ে পড়লেন | ঠাকুর আমাকে বললেন, মা বলছে, যা | ঠাকুমা তৎক্ষণাৎ আমাদের রওনা করিয়ে দিলেন | আমরা ঈশ্বরদি পৌঁছে ৮টায় কলকাতাগামী ট্রেন ধরলাম | শিয়ালদা স্টেশনে নেমে আমায় ব্রজগোপাল মাষ্টারমশাই সোজা ট্রপিক্যালে নিয়ে গেলেন | দেখি এক প্যান্ট - কোট পরা ডাক্তার সিরিঞ্জ টেবিলের ওপর রেখে রেডি হয়েই বসে আছেন | মাস্টারমশাই আমাকে দেখিয়ে বললেন, একে কুকুরে কামড়েছে | ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, ক্ষ্যাপা কুকুর নাকি ? আমি বললাম, তা' জানি না তো | ----- হ্যাঁ, হ্যাঁ, ক্ষ্যাপা কুকুরই, আমি ভাল ক'রে জানি | আরো কয়েকজনকে কামড়েছে, কুকুরটাকে মেরে ফেলাও হয়েছে ----- মাষ্টাররমশাই উত্তর দিলেন | এবার আমি কাছে যেতেই ডাক্তারবাবু বললেন ----- শোন, এদিকে এস | জামা তুলে পেটে হাত দিয়ে বললেন, এইখানে ইঞ্জেকসন নিতে হবে, রোজ একটা ক'রে ---- ১৭ দিন | ১৭ দিন থাকতে হবে ? ----- ব'লেই আস্তে - আস্তে পিছুতে শুরু করলাম | পিছুতে - পিছুতে প্রায় দরজার কাছে পৌঁছে গেছি ; মাষ্টারমশাই বললেন, তাতে কি হয়েছে ? বললাম, না, আমি নেব না | না, নিতেই হবে ------- ডাক্তারবাবু জোর দিয়ে বললেন | আমার ইঞ্জেকসন নেবার ইচ্ছে নেই আর ঠাকুরকে ছেড়ে এতদিন থাকব ভাবতেও পারছি না | উনি কিন্তু দেবেনই | মাষ্টারমশাইও খুব পীড়াপীড়াপীড়ি করতে লাগলেন | বেগতিক দেখে দরজার পাশ দিয়ে দিলাম দৌড়! আমায় ছুটতে দেখে ডাক্তারবাবু বলছেন, এই খোকা! যেও না, যেও না | মাষ্টারমশাই চিৎকার করতে লাগলেন | কিন্তু কে কার কথা শোনে | এক দৌড়ে চলে এলাম শেয়ালদা | মাষ্টারমশাইও আমায় ধরার জন্য পেছন ছুট দিলেন | নাগাল পেলেন না | আমি টিকিট কেটে প্লাটফর্মে গিয়েই দেখি, একটা ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে | জিজ্ঞাসা করলাম, কোথা যাবে ? -----শিলিগুড়ি | আমি অমনি উঠে পড়লাম | পরদিন সকালে আশ্রমে পৌঁছালাম | সূর্য উঠে গেছে | ঠাকুর তখন ঠাকুমার কটেজের দক্ষিণ - পশ্চিমের খড়ের ঘরের বারান্দায় ব'সে | আমায় দেখেই ঠাকুর চিৎকার ক'রে বললেন ওই যে! পাগল এসে গেছে | তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, কী হ'লরে ? বললাম, ডাক্তার ১৭ দিন থেকে ইঞ্জেকসন নিতে বলল, আমি চলে এলাম | ঠাকুর হাসতে - হাসতে বললেন , ভালই করেছিস | আমাকে দেখেই ঠাকুমা ভীষন রেগে গেলেন | বললেন, হারামজাদা, ইঞ্জেকসন না নিয়ে চলে এলি ! ঠাকুরকে বলতে লাগলেন, ক্ষ্যাপা কুকুরে কামড়েছে, ও চলে এল ; তুই কিছু বলছিস্ না যে! আমাদের বংশে কেউ শেয়াল - কুকুরের কামড় খেয়ে ক্ষেপেনি | ও ক্ষেপে গেলে কী হবে? ঠাকুর হাসতে - হাসতে বললেন, না, ওর কিছু হবে না |
ঘটনাটি শুনে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের মনে যুগপৎ শিহরন ও বিস্ময়ের সঞ্চার হ'ল |
শ্রীশ্রীপিতৃদেব শিশু - সরল হাসি হেসে বললেন - আমার বয়স এখন চৌষট্টি পার হ'ল | আজও ঠাকুরের দয়ায় ভালই আছি | কী থেকে কী হয় ---- তা' তিনিই জানেন |
( ইষ্ট - প্রসঙ্গে, ২য় খন্ড) 🙏🙏🙏🙏
©ArkaSamant