স্বার্থপর ছিলাম না
নদী পারের সেই ঘরখানা, আজও বড্ডো মনে পড়ে।
যেখানে রোদ, বৃষ্টি, আর আজব ছায়া-আলোর খেলায় আমাদের দিন কেটেছিল।
আকাশের জ্বলজ্বলে তারা, আর পুরোনো বটগাছের সবুজ পাতা,
তারা ছিল আমাদের হাসির নীরব সাক্ষী,
আমাদের ছোট্ট অভিমানেরও।
ভেবেছিলাম, এই জীবন শুধু তোমার, আর তুমি শুধু আমার।
তোমাকে ভালোবাসতে গিয়ে আমি নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ভাবনা ছিল কেবলই তোমাকে ঘিরে।
তখন তো আমি জানতেও পারিনি, যে একসময় তুমি নিজেকে গুটিয়ে নেবে,
চলে যাবে আমার থেকে অনেক দূরে।
তুমি চলে গেলে, আর পড়ে রইল এক গভীর শূন্যতা।
যে শূন্যতা আজও আমাকে একাকী করে রেখেছে।
আজও যখন সেই চেনা পথ দিয়ে হাঁটি,
মনে হয়, তুমি যেন কোথাও লুকিয়ে আছো,
আর হঠাৎ করে এসে আবার সেই হাতটি ধরে বলবে, 'আমি আছি'।
কিন্তু আমার মন জানে, এই শূন্যতা আর কোনোদিন পূরণ হবে না।
তোমার স্মৃতিতে আজও আমি ভেসে চলি,
কিন্তু সেই স্রোত আমাকে আর কোনো নতুন পাড়ে নিয়ে যায় না।
এখন আমি শুধু সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি।
আমি জানি, আমি কখনো স্বার্থপর ছিলাম না।
আমার ভালোবাসা ছিল সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ।
আর তাই আজও তুমি আমার হৃদয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে আছো।
আমি তোমাকে মনে রেখে, একাকী হেঁটে চলেছি এই জীবনের পথে।
ক্লান্ত হলে থমকে দাঁড়াই, পেছনে ফিরে দেখি,
তোমার ছায়া এখনও আমায় অনুসরণ করে।
সেই ছায়া আমাকে বাঁচিয়ে রাখে,
এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে, যেখানে সবাই শুধু স্বার্থ খোঁজে।
আমি ভালোবেসেছিলাম, কিন্তু প্রতিদানে কিছু চাইনি।
এটাই কি তবে আমার পরাজয়, না ভালোবাসা?
আমি জানি না। তবে এটুকু জানি, আমি স্বার্থপর ছিলাম না,
আর তাই হয়তো আজও ভালোবাসার এই পথে একা।