ভগবতী-পূজা করি,তার মানে—
নিজের মাকেই উপাসনা করি,
আর এই মা আমার
এমনতর ঐশ্বর্য্যশালিনী,
দশপ্রহরণী
যাঁ’তে অচ্যুত আনতিই আমার দুর্গ-
সেই আনতির মধ্য দিয়ে
যখন মা’র চরণে নিবেদিত হই
স্বতঃ-সম্বিতে
সক্রিয়তায়—
তখনই মা আমার দুর্গতিনাশিনী,
দুর্গা;
দুনিয়ার যা’-কিছু তাঁ’-হ’তেই
উদ্ভিন্ন হ’য়ে উঠেছে,
ঐ উপাদান থেকে বাদ যেতে পারে
এমনতর কিছু সারা বিশ্বে নাই--
যাঁ’র সম্বর্দ্ধনী উদ্বেলনে
বিশ্ব পরিভৃত হ’য়ে
জেগে ওঠে একটা নির্ব্বিশেষ
চৈতন্যময়ী অধ্যাস—
তিনিই জগদ্ধাত্রী,
কালী তিনিই,
আবার ঐ ঐককেন্দ্রিক নিবেশই
আমার ঐ মা—
গর্ভধারিণী,জননী—
যাঁ’ হ’তে উদ্ভূত হ’য়ে
আমিত্ব-চেতনায়
সংবর্দ্ধিত হ’য়ে চলেছি
রূপে রূপে
গুণে গুণে
কত সন্তর্পণে,
চুপে চুপে
অচল চলনে
সচল হ’য়ে
নিরবচ্ছিন্নতায়--
আর, এই যেখানে সাগ্নিক,
সম্বর্দ্ধনোদ্দীপ্ত,
সেবায়, পরিরক্ষণায়,
পরিপোষণে
পরিপূরণ-পরিচেতনায় স্বতোনিষ্ঠ—
ঐ তো মায়ের পূজা---
ঐখানে!
গ্রন্থ--আশীষ বাণী(১ম খণ্ড)
বাণী সংখ্যা--১৮
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
©ArkaSamant
A